বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
দেশের দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে ইলেকট্রনিক ও সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বও বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি খাত এবং নিরাপত্তা শিল্পের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) সকালে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো এবং ইন্টারন্যাশনাল অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো বাংলাদেশ ২০২৬’-এর উদ্বোধনের পর দুপুরে ‘বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা জোরদার: চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তি ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেফটি অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল জাকির উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. রাকিন হায়দার, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খলিলুর রহমান, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের সাবেক পরিচালক মেজর (অব.) এ কে এম শাকিল নেওয়াজ, অ্যাকোটে গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা এডওয়ার্ড কিম এবং ইনোভেস টেকনোলজিসের (টিপসই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিরুল আলম।
বিসিএস মহাসচিব জনাব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের অভিজ্ঞতার আলোকে ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে ইলেকট্রনিক ও সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি খাত এবং নিরাপত্তা শিল্পের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং ও উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তির আলোকে ভবিষ্যতের ইলেকট্রনিক নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরেন বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. রাকিন হায়দার।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. খলিলুর রহমান প্রযুক্তি গবেষণা ও উদ্ভাবনের অভিজ্ঞতার আলোকে স্মার্ট প্রযুক্তি, রোবোটিকস ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রয়োগের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের সাবেক পরিচালক মেজর (অব.) এ কে এম শাকিল নেওয়াজ।
অ্যাকোটে গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা এডওয়ার্ড কিম আধুনিক ইলেকট্রনিক ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি, স্মার্ট নজরদারি, তথ্যনির্ভর পর্যবেক্ষণ এবং সাইবার নিরাপত্তার সমন্বিত ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু প্রচলিত নজরদারি বা শারীরিক নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে আরও কার্যকর ও সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
ইনোভেস টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিরুল আলম আইওটি, স্মার্ট বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা সমাধানের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্মার্ট প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় সমাধানের ব্যবহার আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্বের ১০টি দেশের প্রায় ১৫০টি শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের নিরাপত্তা কোম্পানি, ৫ শ’র বেশি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ অংশ নিচ্ছেন।
প্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আই-স্টেশন লিমিটেড এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রদর্শনী চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর (শনিবার) পর্যন্ত।
প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরা সর্বশেষ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সরাসরি দেখার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সেফটি খাতের পরিবর্তনশীল প্রবণতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও নিরাপদ, সুরক্ষিত ও ঝুঁকিমুক্ত কর্মপরিবেশ এবং জীবনযাপন নিশ্চিত করতে পারে, সে সম্পর্কেও বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাবেন।