বিসিএসকে বাদ দিয়ে সরকারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড!


রকারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড -২০১৪ আয়োজনে থাকছে না বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। এমনকি আইসিটি নিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় এ মেলার বিষয়ে কিছুই জানেন না তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বৃহত্তম এ সংগঠনের নেতারা। অথচ ৪ জুন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হতে যাওয়া এ ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে সফট এক্সপো প্রদর্শনীতে ইতিমধ্যে নানাভাবে সম্পৃক্ত হয়েছে বাংলাদেশে অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। গত ২৩ এপ্রিল এ বিষয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এবং বেসিসের মধ্যে চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে সরকারের এত বড় আয়োজনে দেশের এ খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠনকেই সম্পৃক্ত না করায় ক্ষুব্ধ বিসিএস ও তথ্য প্রযুক্তিবিদরা। তথ্য প্রযুক্তিবিদ ও বিসিএসের একাধিক মেয়াদের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘এটা কিভাবে হতে পারে তা আমি ভাবতেই পারছি না। দেশের আইটি সেক্টরের সবচেয়ে বড় সংগঠনকে পাশ কাটিয়ে এতবড় একটা আয়োজন করাটা উদ্ভট বিবেচনার কাজ হয়েছে।’ জব্বার আরও বলেন, এটা কিভাবে কতটুকু সফল হবে তা জানা নেই। বিসিএসকে এড়িয়ে যাওয়া বা বেসিসকে নিয়ে মাতামাতি এসবের কোনটিই বোধগম্য নয়। এখনতো প্রশ্ন আসে? ডিজিটাল উন্নয়নে আদৌ কি কেউ কিছু করতে চায়? শনিবার এই তথ্য প্রযুক্তিবিদ তাঁর ফেইসবুক স্টাটাসে লিখেন, ‘বড় বিদঘুটে দিনকালে পথ চলছি; সরকার ই-এশিয়া (ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা) করার জন্য বেসিসকে ৭ কোটি টাকাসহ পুরো দায়িত্ব দিয়েছে, বিসিএস বা আইএসপিএবিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেসও করেনি। অন্যদিকে ৪ দিন ধরে বিটিসিএল-এর ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে-অভিযোগ করারও জায়গা নেই। মগের মুল্লুক! বিসিএসের যুগ্ম মহাসচিব এস এম ওয়াহিদুজ্জামান টেকশহরডটকমকে জানান, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আইসিটি সংগঠনকে অবহেলাটা দুঃখজনক। এই আয়োজনের প্রধান লক্ষ্য দেশের আইসিটিকে তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা। যেখানে বিসিএসই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। খুব শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের ডিজিটাল উন্নয়নে আমরা নিবেদিত প্রাণ। আমাদের যোগ্যতা আছে সেইসঙ্গে সক্ষমতাও আছে। সরকারের উচিত আমাদের নিয়ে একসঙ্গে পথ চলা। বর্তমান সরকার ২০১২ সালে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড নামে তথ্যপ্রযুক্তির মেলা আয়োজন করে। এবারের মেলায় সফট এক্সপো, ই-গভর্নেন্স প্রদশর্নী, মোবাইল ইনোভেশন, ই-কমার্স, এম-কমার্স, বিপিও ফোরাম, ডিজিটাল এন্টারপ্রাইজ, ডেভেলপারস ফোরাম, বিজনেস ম্যাচমেকিং সভা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রায় ২০টি সেমিনার ও ১০টি টেকনিক্যাল সেশন থাকছে।