বিসিএস, বেসিস এবং আইএসপিএবি’র উদ্যোগে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বাজেট সংলাপ অনুষ্ঠিত


সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
২৪ মে ২০১৪

তথ্য প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠনের উদ্যোগে


বাজেট সংলাপ অনুষ্ঠিত

শনিবার, ২৪ মে ২০১৪, রূপসী বাংলা হোটেলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় তিনটি বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফ্টওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডরস এসোসিয়েশন (আইএসপিএবি)’র যৌথ উদ্যোগে ‘তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক বাজেট সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, এমপি বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বেসিস সভাপতি শামীম আহসান। এতে বিসিএস সভাপতি আবু হানিফ মো: মাহফুজুল আরিফ, বেসিস-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ আলমাস কবির ও আইএসপিএবি’র সভাপতি আকতারুজ্জামান মঞ্জু নিজ নিজ এসোসিয়েশনের পক্ষে বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। উপস্থাপিত বাজেট প্রস্তাবনার ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিবিএস-এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং সাবেক সভাপতি মো: ফয়েজউল্যাহ খান, সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান স্বপন, মহাসচিব নজরুল ইসলাম মিলন, বেসিস এর সাবেক সভাপতি হাবিবুল্লাহ এন করিম, প্রাক্তন মহাসচিব ফোরকান বিন কাশেম, পরিচালক একে এম ফাহিম মাশরুর, আইএসপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক, পরিচালক নক্সাব ওমর রব্বানি উথান্ট ও যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মো: তারিকুল ইসলাম প্রমুখ।
সংলাপে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার ৩০ জুন ২০১৫ পর্যন্ত তথ্য প্রযুক্তি খাতের আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি প্রদান করেছে। সভায় সফ্টওয়্যার ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সেবার [ঝড়ভঃধিৎব ্ ওঞঊঝ] এর ওপর থেকে আয়কর অব্যাহতির সময়সীমা আগামী ১০ বছরের জন্য অর্থাৎ ২০২৫ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব করা হয়। একই সাথে সকল প্রকার তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসায় কর অব্যাহতি থাকা সত্বেও অনেক ক্রেতা (সরকারী/ বেসরকারী)‘অগ্রিম আয়কর বিধি’ (অওঞ জঁষব-১৬) অনুযায়ী আয়কর মওকুফ সনদ (ওহপড়সব ঞধী ঊীবসঢ়ঃরড়হ পবৎঃরভরপধঃব) চায়। যেহেতু সফ্টওয়্যার ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সেবা [ঝড়ভঃধিৎব ্ ওঞঊঝ] প্রদানকারী সকল প্রতিষ্ঠানই আয়কর অব্যহতির আওতামুক্ত, সেহেতু প্রতিবার সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্রেতাকে আয়কর অব্যাহতি সনদ দেখানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। সফ্টওয়্যার ও তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সেবা [ঝড়ভঃধিৎব ্ ওঞঊঝ] প্রদানকারী সকল প্রতিষ্ঠানই আয়কর অব্যাহতির আওতামুক্ত বিধায় প্রতিবার সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্রেতাকে আয়কর অব্যাহতি সনদ (ওহপড়সব ঞধী ঊীবসঢ়ঃরড়হ পবৎঃরভরপধঃব) এর বাধ্যবাধ্যকতা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
বর্তমানে আইটি পরামর্শ সেবার [ওঞ ঈড়হংঁষঃধহপু] কে সাধারণ সেবা হিসেবে গণ্য করে অনেক ক্ষেত্রে ১০% আয়কর কর্তন করা হয়। কিন্তু অনেক আইটি কোম্পানী দেশে বা দেশের বাইরে আইটি পরামর্শ সেবা দিয়ে থাকে। আইটি পরামর্শ সেবা [ওঞ ঈড়হংঁষঃধহপু]-কে তথ্য প্রযুুক্তি নির্ভর সেবা [ওঞ ঊহধনষবফ ঝবৎারপব] হিসেবে গণ্য করে এর ওপর থেকে ১০% কর কর্তন যাতে না করা হয় সে ব্যাপারে প্রস্তাব করা হয়।

বর্তমানে মূসক অব্যাহতির তালিকায় আমদানী ও উৎপাদন পর্যায়ে ঝড়ভঃধিৎব মূসক মওকুফের আওতায় আছে। বর্তমানে সফ্টওয়্যার আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানসমূহ মূলত এই এসআরওসমূহ ব্যবহার করে থাকেন। তবে স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত (উবাবষড়ঢ়বফ) ঈঁংঃড়সরুবফ সফ্টওয়্যার এই এসআরওর আওতাধীন কি না সে ব্যাপারে প্রায়শই প্রস্তুতকারক, ক্রেতা এবং রাজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। যেহেতু ঈঁংঃড়সরুবফ ঝড়ভঃধিৎব উবাবষড়ঢ়সবহঃ প্রধানত সেবা (ঝবৎারপব) ব্যবসা হিসেবে সর্বত্র বিবেচিত। সফ্টওয়্যারকে একটি দৃশ্যমান পণ্যের (ঞধহমরনষব এড়ড়ফং) পরিবর্তে সেবা হিসেবে বিবেচনা করাই সমীচীন ও যথার্থ। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সেবার [ওহভড়ৎসধঃরড়হ ঞবপযহড়ষড়মু ঊহধনষবফ ঝবৎারপবং]সংজ্ঞায় ‘ঈঁংঃড়সরুবফ ঝড়ভঃধিৎব উবাবষড়ঢ়সবহঃ ঝবৎারপবংদঅন্তর্ভুক্ত করে এ বিভ্রান্তি দূর করার প্রস্তাব করা হয়। বেসিস-এর পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হচ্ছে, সরকারের সকল পর্যায়ে অটোমেশন কর্মসূচি জোরদার করার জন্য বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সেবার [ওহভড়ৎসধঃরড়হ ঞবপযহড়ষড়মু ঊহধনষবফ ঝবৎারপবং] ওপর প্রযোজ্য মূসক ৪.৫% থেকে কমিয়ে শূন্য (০%) শতাংশ করা প্রয়োজন বলে বেসিস এর পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ই-কমার্স উৎসাহিত করতে ই-কমার্স ভিত্তিক পণ্য ও সেবা লেনদেন ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করে অনলাইনে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা, ডিজিটাল সার্টিফিকেট প্রচলন ইত্যাদি উৎসাহিত করতে প্রাথমিকভাবে আগামী ৩-৫ বছরের জন্য ই-কমার্সের সকল লেনদেনের ওপর থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্র বিবেচনায় তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য বাড়িভাড়ার ওপর থেকে বর্ণিত ৯% মূসক প্রত্যাহার করা হয়েছে। আইটি খাতের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বাড়িভাড়ার ওপর থেকে ৯% মূসক মওকুফসহ উল্লেখযোগ্য প্রণোদনা থাকা আবশ্যক বলে আলোচকরা উল্লেখ করেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মূসক ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছিল যা প্রশংসনীয়। বেসিস মনে করে বর্তমান সরকার ঘোষিত ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় ধরণের পদক্ষেপ। সরকারের কর প্রশাসনে মূসক ব্যবস্থাপনা অটোমেশন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে ভ্যাট ব্যবস্থাপনা অটোমেশন বাধ্যতামূলক করা হলে স্বলপমেয়াদে ৫০০ কোটি টাকা এবং মধ্যমেয়াদে ২৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। ইতিমধ্যে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অটোমেশন কার্যক্রম চালু হয়েছে বলেও সংলাপে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, জাতীয় দৈনিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক গত এপ্রিল ২০১২ তে প্রদত্ত বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে আবেদনকারী ৪০টি কোম্পানীর মধ্য থেকে ইতিমধ্যে কিছু কোম্পানী তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং আরো কিছু কোম্পানী তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় আছে। সরকারের স্থায়ী আদেশ বলে স্থগিত হয়ে যাওয়া এ প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য করে একটি বিজ্ঞানসম্মত উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য মূসক ব্যবস্থাপনা অটোমেশন অতিসত্ত্বর পুনরায় চালু করার প্রস্তাব করা হয়। স্থায়ী আদেশ নং ৬৪/মূসক/২০১১ এর সাথে সাংঘর্ষিক এবং এতে ভ্যাট অটোমেশন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ে স্থবিরতা দেখা দেবে। সেইসাথে সেসকল সফ্টওয়্যার কোম্পানী এ কার্যক্রমের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং যারা তালিকাভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সেসকল প্রতিষ্ঠান সমূহ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

স্বল্পতম সময়ের মধ্যে মূসক ব্যবস্থাপনা অটোমেশন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য এবং মূসক ব্যবস্থাপনা অটোমেশনের ক্ষেত্রে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব আয় ৫০ লক্ষ টাকা নির্দিষ্ট না করে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও বাধ্যতামূলক করারও প্রস্তাব করা হয়। মূসক ব্যবস্থাপনা সফ্টওয়্যার তৈরির জন্য তালিকাভুক্ত সফ্টওয়্যার কোম্পানীসমূহ এবং মূসক ব্যবস্থাপনা অটোমেশন বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে পৃথক পৃথক নীতিমালা প্রণয়নেরও প্রস্তাব করা হয়।

আইসিটি শিল্প সংশ্লিষ্ট অনেক পণ্যের বিভিন্ন বিভাগে এইচ,এস কোড বিন্যাসে ব্যতিক্রমের কারণে ঐগুলির উপর প্রযোজ্য শুল্কহারে মাত্রাতিরিক্ত বৈষম্য বিরাজ করছে। যেমন, গতানুগতিক প্রিন্টার কার্ট্রেিজর বা টোনারের প্রযুক্তিগত বর্তমান সংষ্করণ হচ্ছে মাল্টিফাংশন প্রিন্টার কার্ট্রজি বা টোনার। প্রিন্টারের উন্নত বা বহুবিধ ব্যবহার্য সংষ্করণের উদ্ভাবনের ফলেই মাল্টিফাংশন প্রিন্টার কার্টিজ বা টোনার-এর প্রয়োজন রয়েছে। অথচ, মাল্টিফাংশন প্রিন্টার কার্টিজ বা টোনার-এর বেলায় পাঁচ (৫) গুণ বেশী আমদানী শুল্ক এবং উৎসে ৪% হারে আয়কর ধার্য করা হয়েছে। আবার, সচরাচর ব্যবহৃত মনিটরের বেলায় সব মিলিয়ে আমদানী শুল্ক-কর ৮.২২%। কিন্তু, এইচডিএমআই/ডিভিআই পোর্ট যুক্ত মনিটরের ক্ষেত্রে এই শুল্ক-করের হার ৬১.০৭%, যদিও এই শেষের শ্রেণীর মনিটর কম্পিউটারের আধুনিকতম সংষ্করণের প্রয়োজনেই ব্যবহার করতে হয়। ব্যবহারিক বিজ্ঞানে বিশ্ব যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, সে তুলনায় বাংলাদেশ যেন প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পড়ছে। পুরোন মডেলের কম্পিউটারে বা তার অনুসঙ্গে সাম্প্রতিকতম প্রোগ্রাম (সফটওয়্যার) ব্যবহার করা যায় না, ফলে বিশ্ব নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বার ঝুঁকি দেখা দেয়। ১৯৬৯ সালের শুল্ক আইন এইচএস কোড পুনর্বিবেচনা, পুনর্বিন্যাস এবং শুল্ক-কর হারের সুষম প্রয়োগের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়।
ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ যথা, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ডিজিটাল ক্যামেরা, ২৭ ইঞ্চি পর্যন্ত মনিটর, মাল্টি ফাংশনাল প্রিন্টার, ইন্টারনেট সংযোগের জন্য নেটওয়ার্কিং ডিভাইস, ইত্যাদির আমদানী শুল্কাদি মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়।

তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবসায়ী-প্রকৌশলী সমাজ এবং সরকারী সংশ্লিষ্ট দফতরের যৌথ উদ্যোগে একটি পুনঃনিরীক্ষণ (রিভিউ) কমিটি গঠন - যার প্রধান উদ্দেশ্য হবে যে কোন অর্থ বৎসরে ৪/৬ মাস অন্তর আইসিটি পণ্যের শুল্ক-কর হার পুনর্বিবেচনা করা যাতে সরকার সেইমত সময়োচিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

১৯৮৪ সালের আয়কর বিধিমালার ১৭এ বিধির প্রথম প্রোভাইসোর তালিকায় সংশ্লিষ্ট পণ্যের অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং প্রথম প্রোভাইসোর শেষে সংশ্লিষ্ট আইসিটি পন্যের জন্য ৪% উৎস-করের বিধান করে দ্বিতীয় প্রোভাইসো অন্তর্ভুক্ত করা।

টেন্ডার, চুক্তি বা কার্যাদেশের বিপরীতে পণ্য সরবরাহ করলে বা কোন চুক্তি প্রতিপালন করলে উৎসে চুক্তিমূল্যের সর্বোচ্চ ৫% হারে আয়কর কেটে রাখা হয়। ১৩%-এর বেশী নীট লাভ করলেই শুধু ৫% করভার যৌক্তিক হয়। আইসিটি খাতে ১৩% নীট লাভ অর্জন এখনও শুধু স্বপ্ন। সরবরাহ পর্যায়ে দ্বিতীয়বার উৎসে আয়কর কেটে রাখার বিধান বাতিল করতে হবে। ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ৫২ ধারার শেষে অথবা সংশ্লিষ্ট (আয়কর) বিধি ১৬-এর শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ নতুন আর একটা প্রোভাইসো যোগ করা।

বাংলাদেশে যে কোন খাতের জন্মলগ্নে বা বিকাশকালে ট্যাক্স হলিডে প্রদান করা হয়। কিন্তু আইসিটি শিল্প এই ধরনের কোন সুবিধা নাই। বিশেষতঃ, আইটিইএস খাতে ব্যক্তি পর্যায়ের সক্ষমতা ও সাফল্য (ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং) দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের স্বীকৃতি আদায় করেছে। এমতাবস্থায় প্রস্তাবিত আইনি ব্যবস্থা: ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ৪৬সি ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী এবং একই অধ্যাদেশের ৬ষ্ঠ তফসিলের ৩৩ অনুচ্ছেদে সংশোধনীর মাধ্যমে কর অব্যাহতির সময়সীমা ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত বাড়ানো।

অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যের মত আইসিটি খাতের ব্যবসাতেও ন্যূনতম করদায় সব খাতের সব ধরনের গ্রস প্রাপ্তির ০.৫০% নির্ধারণ করা আছে। ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ১৬সিসিসি ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে এই সংশয় দূর করা।

আমদানী পর্যায়ে আইসিটি সংশ্লিষ্ট প্রায় সব পণ্য বা অনুসঙ্গের উপর উৎসে ৪% হারে অতিরিক্ত মূসক (এটিভি) সংগ্রহ করা হয়। এই সংগ্রহের ভিত্তি হচ্ছে আনুমানিক ২৬.৬৭% মূল্য সংযোজন। সব শিল্পের সব পণ্যের বেলায় এই অনুমান বাস্তব সম্মত নয়। ফলে, অতিরিক্ত করভার ব্যবসায়ীদের বহন করতে হচ্ছে। ১৯৯১ সালের মূসক আইনের যথাযথ সংশোধন এনে এ বিষয়টি বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়।

তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর সেবাকে আয়কর অব্যাহতি দেয়া আছে (৩০ জুন ২০১৫ পর্যন্ত), যদিও মূসক থেকে কোন অব্যাহতি দেয়া হয়নি। ন্যায়ানুগ আচরণের স্বার্থে, মূসক থেকেও একই রকম অব্যাহতি দেয়া প্রয়োজন বলে আলোচকরা উল্লেখ করেন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়নের জন্য জাতীয় তথ্য প্রযুক্তি নীতিমালার আলোকে ৭০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করার প্রস্তাব করা হয় যার অন্তত: দশ ভাগ বা ৭০ কোটি টাকা আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ করার প্রস্তাব করা হয়।

আউটসোর্সিং এবং ফ্রিল্যান্সিং কে উৎসাহিত করতে বিশেষ ব্যবস্থায় এই তরুণদের উপার্জনের অর্থ দেশে আনবার বিশেষ অনুমতির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা প্রদান করার প্রস্তাব করা হয়।

ইন্টারনেট মানুষের দোড়গোড়ায় পৌছানোর জন্য নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা ও সুলভ মূল্য আই সি টি উন্নয়নে প্রধান হাতিয়ার। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতির উপরও কম্পিউটার-এর মত বিবিধ শুল্ক প্রত্যাহার করে নেবে। ইতিপূর্বে এ ব্যাপারে ৩রা মার্চ, ২০১৪ ইং তারিখে চেয়ারম্যান রাজস্ব বোর্ডকে ইন্টারনেট সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়।

নেটওয়ার্ক করার জন্য আর একটি প্রয়োজনীয় জিনিস হল ফাইবার অপটিক কেবল যার মাধ্যমে আমরা ইন্টরনেট সেবা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাই। এই ফাইবার অপটিক কেবল এর সহজ লভ্যতা ও সুলভ মূল্যের উপর নেটওয়াকের ব্যপ্তি অনেকাংশে নির্ভর করে। বর্তমানে ফাইবার অপটিক কেবল জন্য ৩৭.৮৩% ভ্যাট ও শুল্ক প্রদান করতে হয়। আমরা ফাইবার অপটিক কেবল জন্য ভ্যাট ও শুল্ক সর্বনি¤œ রাখার অনুরোধ করছি।

ইন্টারনেট সেবা প্রদানে আমরা বিটিসিএল সহ অন্যান্য আই আই জি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাংক ব্যান্ডইউথ একসাথে ক্রয় করি এবং ভ্যালু এডিশন করে নেটওয়ার্ক-এর মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করে গ্রাহকদের সেবা প্রদান করি। ব্যান্ডইউথ ক্রয়ে আমরা ১৫% হারে ভ্যাট প্রদান করি যা মূল্য সংযোজন কর বিধিমালা ১৯৯১ এর বিধি ১৯-এর উপ-বিধি ১ মোতাবেক ১০০% রেয়াতযোগ্য। কিন্তু ভ্যাট কমিশনারেট আইএসপি ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ১৯-এর উপ-বিধি ১(ক) অনুযায়ী ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পরিশোধ্য মূসকের ৮০% (যা পূর্বে ৬০% ছিল) রেয়াতযোগ্য করা হয় যা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য প্রযোজ্য। এমতাবস্থায়, আইএসপি ব্যবসায়ীদের ব্যান্ডইউথ ক্রয় এর উপর ১৯/১ অনুযায়ী পূর্বের ন্যায় ১০০% রেয়াত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়। একই সাথে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট-এর দাম সুলভ করার লক্ষ্যে ভোক্তার উপর প্রযোজ্য ১৫% ভ্যাট প্রদানের বাধ্যবাধকতা রহিত করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। অর্থাৎ, ২০১৪-১৫ অর্থবছর হতে গ্রাহকের ভ্যাট দিতে হবে না এবং সরকারও ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সেই ভ্যাট গ্রহণ করবে না। বর্তমানে কর্পোরেট ট্যাক্স ৩৭.৫০% যা আইসিটি প্রতিষ্ঠানে জন্য কমানোর জন্যও সংলাপে প্রস্তাব করা হয়।